সর্বশেষ শিরোনাম

পিকু : মন ছুঁয়ে যাওয়া পারিবারিক ছবি

Bookmark and Share

O5wusjH5aM5aYVmqX6hcgBpkJ97N7jGwEcGXmy2nkXnjTzzQW

 

সুজিত সরকারের নতুন ছবি ‘পিকু’ ইতোমধ্যেই দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পিকুর কাহিনি আবর্তিত হয়েছে দুটি চরিত্রকে ঘিরে। ভাস্কর ব্যানার্জি (অমিতাভ বচ্চন) সত্তরে পা রাখা আত্মকেন্দ্রিক এক বাঙালি বৃদ্ধ। একা হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি মেয়ে পিকুকে (দীপিকা পাড়ুকোন) বিয়ে দিতে চান না। আপাতদৃষ্টিতে ভাস্কর ব্যানার্জি চরিত্রটি নিতান্তই স্বার্থপর মনে হতে পারে। তবে অন্যদিক থেকে চিন্তা করলে, ভাস্কর ব্যানার্জি চান না অন্য আট-দশটা নারীর মতো পিকুর জীবন ঘর-সংসারের বোঝা টানতে টানতে কেটে যাক। নিজের মেয়েকে আর্থিক এবং শারীরিকভাবে স্বাধীন দেখতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন।
অন্যদিকে পেশায় আর্কিটেক্ট পিকু ব্যানার্জি (দীপিকা পাড়ুকোন) ত্রিশে দাঁড়ানো আত্মনির্ভরশীল একজন নারী। সকাল থেকে রাত অবধি বাবার নানা আবদার মেটাতে গিয়ে দিন পার হয়ে যায় পিকুর। বাবাকে অসম্ভব ভালোবাসেন বলেই নিজের জীবনের সিদ্ধান্তে বাবার অনুপ্রবেশে তার কোনো আপত্তি নেই।
পিকু ছবিটিতে ভাস্কর ব্যানার্জির কোষ্ঠকাঠিন্য ব্যাপক হাস্যরস সৃষ্টি করে। বৃদ্ধ বয়সে এসে প্রত্যেক বাবা-মা’ই যে সন্তানের উপর নির্ভরশীল হয়ে যান, তখন কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো তুচ্ছ বিষয়ও ব্যাপক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এই অমোঘ সত্যটা মূলত ধরা দিয়েছে সেলুলয়েডের পর্দায়।
দিল্লি থেকে কলকাতায় রোড ট্রিপে ট্যাক্সি কোম্পানির মালিক রানা চৌধুরীর (ইরফান খান) সঙ্গে পিকুর আবেগীয় সম্পর্কের অগ্রগতি বেশিদূর দেখানো হয়নি। পিকু তাই কোনো রোমান্টিক উপাখ্যান নয়। বরং এটি কমেডি ড্রামা ধাঁচের মুভি, যা গতানুগতিক ধারার একটু বাইরের বৈকি।
মুভিটির কাহিনি রচয়িতা জুহি চতুর্বেদীকে ধন্যবাদ দিতে হয় ব্যতিক্রমী একটি প্লটের জন্য। এছাড়া অনুপম রায়ের কম্পোজিশনে গান ও আবহসংগীত ছিল অনবদ্য।
মুভিটির চরিত্র বিশ্লেষণের প্রথমে বলতেই হবে দীপিকা পাড়ুকোনের কথা। বাঙালি মেয়ের চরিত্রে দীপিকা ছিলেন অসাধারণ। ছবিতে বাংলা বলা ছাড়াও দীপিকার মূল চ্যালেঞ্জ ছিল বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করে যাওয়া। এই পরীক্ষায় দীপিকা উৎরে গেছেন বেশ ভালোভাবেই। মুভিটিতে দীপিকার বাংলা উচ্চারণ, আবেগীয় দৃশ্যে সম্পৃক্ততা, অভিনয় সবই ছিল প্রায় নির্ভুল।
শক্তিমান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন তার অসাধারণ অভিনয়প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। চলচ্চিত্রের সাথে মানিয়ে তার সাজসজ্জাও ছিল অসাধারণ। বার্ধক্যে এসে তার খিটখিটে মেজাজ কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যসংক্রান্ত আলোচনায় অমিতাভের বলিষ্ঠ অভিনয় একদিকে যেমন দর্শকদের জীবনের কঠিন বাস্তবতা শিখিয়েছে, অন্যদিকে হাস্যরস জুগিয়েছে। তবে অমিতাভের বাংলা উচ্চারণ মাঝে মাঝে অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে।
ইরফান খান (রানা চৌধুরী) ছিলেন সবসময়কার মতোই অসাধারণ। সহজ-সাবলীলভাবে অভিনয় করে ইরফান আরো একবার বুঝিয়ে দিলেন, অভিনয়টা তিনি ভালোই জানেন।
সবমিলিয়ে পিকু দর্শকমনে ভিন্ন অনুভূতির সৃষ্টি করবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিশেষ করে বিশুদ্ধ অভিনয় উপভোগ করতে চাইলে পিকু একটি অবশ্যই দেখার মতো ছবি।
ছবি : পিকু
পরিচালক : সুজিত সরকার
সংগীত : অনুপম রায়
অভিনয় : অমিতাভ বচ্চন, দীপিকা পাড়ুকোন, ইরফান খান
- শাহারিয়ার মাহি

Bookmark and Share

Comments are closed.