সর্বশেষ শিরোনাম

থমকে দাঁড়ালেন মোদি

Bookmark and Share

pic-19_230618
বিমানবন্দর থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ হয়ে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিনম্র শ্রদ্ধা। ছবি : পিএমও

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে ঘুরছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাবলীল ভঙ্গিতে দৃঢ় পদক্ষেপে সবাইকে পেরিয়ে পেরিয়ে একাই সব কিছু দেখছিলেন। হঠাৎ মোদি থমকে গেলেন সিঁড়ির চাতালের সামনে গিয়ে, যেখানে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর বুক ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল বুলেটের আঘাতে। স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন মোদি; এরপর বিনম্র শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে দুই হাত জোড় করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে সম্মান জানালেন।

মোদির থমকে যাওয়ার মুহূর্তের এই বর্ণনা শোনা গেল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ট্রাস্টের সিইও মাশুরা হোসেনের মুখে। মোদি বঙ্গবন্ধু ভবন ছেড়ে যাওয়ার পর মাশুরা হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সিঁড়ির চাতালের সামনে গিয়ে সবাই থেমে যান। ওখানে সবাইকেই থামতে হয়।

মোদির পরিদর্শনের সময় উপস্থিত একজন জানালেন, বিভিন্ন কক্ষে টাঙানো ছবি দেখার সময় নরেন্দ্র মোদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একটি ছবি গভীর মনোযোগের সঙ্গে দেখেন। সময় নিয়ে পড়েন ছবির নিচের ক্যাপশনটিও। ছবিটি ছিল ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চের। দুই নেতা সেদিন স্বাক্ষর করেছিলেন বাংলাদেশ-ভারত ২৫ বছর মৈত্রী চুক্তি।

স্মৃতি জাদুঘরে পাকিস্তানের শাসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অংশগ্রহণের ছবিও দেখেন মোদি। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষ, পারিবারিক বিভিন্ন ছবিও মোদির মনোযোগ আকর্ষণ করে। এসব পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন দেখার পর মোদি যান ব্যালকনিতে, যেখানে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু অনেক সময় ভাষণ দিতেন; হাত নাড়িয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতেন। এ সময় মোদি একান্তে আলোচনা করেন বঙ্গবন্ধুর নাতি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের সঙ্গে। জাদুঘরের অন্যান্য অংশ দেখার সময়ও তিনি সঙ্গে ছিলেন। স্মৃতি জাদুঘরে মোদিকে স্বাগতও জানান রাদওয়ান। মোদি এই বঙ্গবন্ধু ভবনে ছিলেন প্রায় ৩০ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে মূল জাদুঘর ছাড়াও পেছনের সম্প্রসারিত জাদুঘরেও যান তিনি। মোদি পরিদর্শক বইয়েও স্বাক্ষর করেন।

বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পরিদর্শনের পর নরেন্দ্র মোদি এক টুইটে লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, গণতন্ত্রের প্রতিমূর্তি, এক বিশাল ব্যক্তিত্ব এবং ভারতের এক মহান বন্ধুকে শ্রদ্ধা।’

এর আগে সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চলে যান সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সেখানে শহীদবেদিতে ফুল দেওয়ার পর একটি ‘উদয়পদ্ম’ গাছের চারা রোপণ করেন মোদি। স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতির কথা লেখেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আই পে হোমেজ টু দ্য ব্রেভ মেন, উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেনস হু মেড দ্য আলটিমেট স্যাক্রিফাইস ফর দেয়ার মাদারল্যান্ড।’ অর্থাৎ, ‘আমি সাহসী পুরুষ, নারী ও শিশুদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যাঁরা তাঁদের মাতৃভূমির জন্য চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’

কালের কণ্ঠ’র সাভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ৩০ লাখ স্বাধীনতাকামী বাঙালি ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে গাড়িবহর নিয়ে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান সকাল ১১টা ১৭ মিনিটে। সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক ও সাভারের সংসদ সদস্য এনামুর রহমান। এ সময় সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল কমান্ডিং অফিসার (জিওসি) মেজর জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কবীর আহম্মেদ ভূইয়া, ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে নরেন্দ্র মোদি স্মৃতিসৌধের শহীদবেদিতে ফুল দিয়ে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর তিনি শহীদবেদির সামনে এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। উত্তোলিত হয় জাতীয় পতাকা। সেখানে তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেয়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

এর আগে নরেন্দ্র মোদিকে বহনকারী ভারতের বিমানবাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নামে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে। ‘রাজদূত’ নামের এই উড়োজাহাজটির সামনে দুই পাশে উড়ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা। ভিভিআইপি টারমাকে ভেড়ার ১০ মিনিট পর উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসেন মোদি। তাঁর পরনে ছিল সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও ছাই রঙের ওয়েস্ট কোট।

এ সময় লাল গালিচায় অপেক্ষা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোদি নেমে এলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান শেখ হাসিনা। এর আগে ১৯ বার তোপধ্বনি হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে। লাল শাড়ি পরা একটি শিশু এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয় শুভেচ্ছার ফুল। শিশুটিকে আদর করে তার সঙ্গে কথাও বলেন মোদি। নাম জানতে চাইলে শিশুটি জানায়, তার নাম কাজী কার্পিতা হোসেন। পড়ে প্রথম শ্রেণিতে। লাল গালিচা সংবর্ধনার পর মোদিকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সালাম নেন। এ সময় বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সংগীত।

গার্ড পরিদর্শনের পর শেখ হাসিনা তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোদিকে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে মোদিও তাঁর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে শেখ হাসিনাকে পরিচয় করিয়ে দেন।

Bookmark and Share

Comments are closed.