সর্বশেষ শিরোনাম

দ্বিগুণ বেতন সঙ্গে বৈশাখী ভাতা

Bookmark and Share
01_266093

বৈশাখী ভাতাসহ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রত্যেক সরকারি চাকরিজীবী তাঁর মূল বেতনের ২০ শতাংশ ‘বাংলা নববর্ষ ভাতা’ হিসেবে পাবেন। ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত চাকরির শ্রেণি তুলে দেওয়া হয়েছে। এর বদলে গ্রেড দিয়ে কর্মচারীদের অবস্থান চিহ্নিত হবে। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তুলে দিয়ে প্রতিবছর নির্ধারিত হারে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বেড়েছে, তবে দাবি অনুযায়ী নয়। তাঁদের বিষয়টি পর্যালোচনা করবে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি কিছু পর্যালোচনার পর কার্যকর করা হবে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে সব গ্রেডে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে। আর চলতি সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বর্ধিত হারে পাওয়া যাবে। জুলাই ও আগস্টের বকেয়া পাওনা পরে পরিশোধ করা হবে। তবে নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা দেওয়া হবে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে।

মূল বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর সরকারের খরচ বাড়বে ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগামী বছর ভাতা বৃদ্ধি কার্যকর হলে সব মিলিয়ে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে ২৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। নতুন পে স্কেলে বিভিন্ন পদে প্রায় শতভাগ বেতন বেড়েছে। নতুন পে স্কেলে চতুর্থ শ্রেণির চাকরির প্রারম্ভিক পদ ২০তম গ্রেডের বেতন ১০১.২৩ শতাংশ বেড়ে আট হাজার ২৫০ টাকায় পৌঁছাবে। বর্তমানে এই বেতন চার হাজার ১০০ টাকা। সচিব পদমর্যাদার গ্রেড-১-এর বেতন ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে গ্রেড-১-এর বেতন ৪০ হাজার টাকা। বেতন কাঠামোর ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হলেও সিনিয়র সচিবের একটি বিশেষ গ্রেড সৃষ্টি করা হয়েছে। সিনিয়র সচিবের বর্তমান বেতন ৪২ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোতে এই বেতন হবে ৮২ হাজার টাকা। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের গ্রেড আগের মতোই স্পেশাল রয়েছে। বেসামরিক প্রশাসনের সর্বোচ্চ এ পদের বেতন ৯১.১১ শতাংশ বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা হয়েছে। সর্বোচ্চ এ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদ্বয়ের বর্তমান বেতন ৪৫ হাজার টাকা।

দ্বিগুণ বেতন সঙ্গে বৈশাখী ভাতা

বৈশাখে উৎসব ভাতা : সব ধর্মের সরকারি কর্মচারীদের নববর্ষে বাড়তি একটি উৎসব ভাতা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রতিবছর বৈশাখ উপলক্ষে তাঁরা এই ভাতা পাবেন। এর পরিমাণ হবে মূল বেতনের ২০ শতাংশ। ২০১৬ সালের পহেলা বৈশাখ থেকে এ ভাতা কার্যকর হবে।

গ্রেডে পরিচয় : ব্রিটিশ আমল থেকে সরকারি চাকরি চার শ্রেণির। এগুলো হচ্ছে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির। এই শ্রেণিবিন্যাস থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে গ্রেডে পরিচয় হবে। কে কোন গ্রেডে বেতন পান সেটাই হবে মুখ্য পরিচয়। কোন শ্রেণির কর্মকর্তারা গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে জানাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবি পূরণ হয়নি : নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুরু থেকে অসন্তুষ্ট ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাবি পূরণ হয়নি। তাঁদের অসন্তোষ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রিসভা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তাঁদের অবস্থান নিয়ে সরকার সচেতন। তাঁরা নতুন স্কেলে বেতন পাবেন। যে যে গ্রেডে আছেন সেই গ্রেডের নতুন কাঠামোতেই বেতন পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেসব দাবি তুলে ধরেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এসব দাবি পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটি।

অপেক্ষা করতে হবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও : বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী টাকা পাবেন। তবে এ বেতন-ভাতা পাওয়ার আগে তাঁদের বিষয়টি পর্যালোচনা করবে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়। অভিযোগ রয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় পুরোটাই সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার নিয়ম থাকলেও তা হয় না। এ ছাড়া এমপিওভুক্তি নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। মন্ত্রিপরিষদসচিব জানিয়েছেন, কিভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হবে তা অর্থ বিভাগ পরিপত্র দিয়ে নির্ধারণ করবে। শিক্ষকদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ছয় মাস পরে এ কাঠামো কার্যকর করা যেতে পারে। গত কয়েকটি বেতন কাঠামো কার্যকর পদ্ধতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে চতুর্থ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ছয় মাস পর পেয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তবে ১৯৯৭ সালের পঞ্চম বেতন কাঠামো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গেই পেয়েছেন তাঁরা। আবার ২০০৫ সালে ষষ্ঠ বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার বেশ কয়েক মাস পর পেয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। কিন্তু ২০০৯ সালের বেতন কাঠামো পেয়েছেন অন্য চাকরিজীবীদের সঙ্গেই।

পেনশন সুবিধা বেড়েছে : অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা মূল বেতনের ৮০ শতাংশ পেনশন পান। নতুন বেতন কাঠামোতে এটা ৯০ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন নিট পেনশনের পরিমাণ মাসে দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর চিকিৎসা ভাতা ৬৫ বছর পর্যন্ত ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৫০০ টাকা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়স হলে এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। মৃত্যু কিংবা অক্ষমতার বিষয়টি উদার ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে পেনশনযোগ্য ন্যূনতম চাকরিকাল পাঁচ বছর ধরা হয়েছে। আর পাওনা সাপেক্ষে অর্জিত ছুটি নগদায়নের সুবিধা হিসেবে ১২ মাস হতে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে পেনশন খাতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে বছরে তিন হাজার ৬৯১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। যেসব কর্মকর্তা নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করার সময় জনস্বার্থে পিআরএল বাতিলের শর্তে সরকারি পদে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োজিত থাকবেন, তাঁদেরকে বিশেষ বিবেচনায় নতুন স্কেলে পেনশন/আনুতোষিক গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনে বিধি-বিধান সংশোধন করা হবে।

উঠে গেল টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড : দীর্ঘদিনের পুরনো পদ্ধতি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন সবার বিভিন্ন হারে ইনক্রিমেন্ট হবে। নিচের দিকে বেশি ইনক্রিমেন্ট হবে আর ওপরের দিকে কমে যাবে। সবচেয়ে বেশি ইনক্রিমেন্ট হবে ৫ শতাংশ। ২০ থেকে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মচারীরা এ সুবিধা পাবেন। গ্রেড-৫-এর জন্য ইনক্রিমেন্ট ৪.৫ শতাংশ। গ্রেড-৩ ও ৪-এর কর্মকর্তাদের ইনক্রিমেন্ট হবে ৪ শতাংশ। এ ছাড়া দ্বিতীয় গ্রেডের কর্মচারীরা ৩.৭ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পাবেন। প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের কোনো গ্রেড থাকবে না। বিদ্যমান বেতন স্কেলের ৭ ও ৮ নম্বর গ্রেড সিলেকশন গ্রেড ও ৪ নম্বর গ্রেডটি টাইম স্কেল।

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, টাইম স্কেলে যে বেতন বাড়ে তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়বে নতুন নিয়মে। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড কেউ পান, কেউ পান না। নতুন পদ্ধতিতে বেতন বাড়বে সবার।

প্রেষণ ভাতা বাতিল : চাকরিজীবীদের শিক্ষা সহায়ক ভাতা, চিকিৎসা, যাতায়াত, ধোলাই ও টিফিন ভাতা বাড়বে। তবে উৎসব ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, কার্যভার ভাতা, ডমেস্টিক এইড অ্যালাউন্স, পাহাড়ি, আপ্যায়ান, পোশাক, অধিকাল, বদলিজনিত ভ্রমণভাতার বিদ্যমান বিধান বহাল থাকবে। কেবল ভাতার জন্য প্রেষণে যাওয়ার প্রবণতা চাকরি শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ডেপুটেশন ভাতা বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ ভাতা থাকবে। এ ক্ষেত্রে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের আগে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে পরিমাণ প্রশিক্ষণ ভাতা পেতেন, তাই-ই বহাল থাকবে।

উপেক্ষা করা হলো ‘এ’ গ্রেডপ্রাপ্ত ৩০ দপ্তর প্রধানকে : ২০১৩ সালে প্রত্যেক ক্যাডার থেকে একজন কর্মকর্তাকে গ্রেড-১ বা সচিব পদমর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সিনিয়র সচিব পদকে গ্রেডের ঊর্ধ্বে রেখে তা অকার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বেতন কমিশন গত ২১ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার ও সর্বনিম্ন আট হাজার ২০০ টাকা মূল বেতন ধরে ১৬টি গ্রেডে নতুন বেতন কাঠামো সুপারিশ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি সর্বনিম্ন আট হাজার ২৫০ এবং সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা মূল ধরে কাঠামো সুপারিশ করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন আট হাজার ২৫০ টাকা মূল ধরে নতুন এই কাঠামো অনুমোদন করা হলো।

পুলিশের ঝুঁকি ভাতা থাকছে : পুলিশ বা অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দেওয়া ৪০ শতাংশ ঝুঁকি ভাতা পর্যালোচনা করে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছিল কমিশন। গতকাল মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া বেতন কাঠামোতে বলা হয়েছে, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৪০ শতাংশ হারে ঝুঁকি ভাতা পাবেন না, তবে এখন প্রত্যেকে যে পরিমাণ ঝুঁকি ভাতা পাচ্ছেন, ভবিষ্যতেও তাই পাবেন। অবশ্য কোস্টগার্ড ও র‌্যাবে প্রেষণে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা কিংবা প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা পাবেন না। একইভাবে এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, ডিজিআর ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার আগে তাঁরা যেসব ভাতা পেতেন, শতকরা হারের বদলে সেই একই পরিমাণ অর্থই ভোগ করবেন তাঁরা।

২৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখা যাবে প্রভিডেন্ট ফান্ড : ১৯৮৫ সালের আদেশে সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলে (প্রভিডেন্ট ফান্ড) সর্বনিম্ন চাঁদার হার মাসিক বেতন ৪০০০ টাকার বেশি স্থলে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু চাঁদার সর্বোচ্চ সীমা ছিল না। ফলে অনেক চাকরিজীবী তাঁর মূল বেতনের পুরোটাই এ তহবিলে জমা করছেন। বিদ্যমান ‘দ্য জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড রুলস, ১৯৭৯’ সংশোধন করে প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদার পরিমাণ সর্বনিম্ন মূল বেতনের ৫ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।

ব্যাংকের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো : অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের সম্মতিক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে তা যাতে সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন বেতন কাঠামো চালু করা যেতে পারে।

আপাতত বন্ধ থাকছে গৃহ ও গাড়ি ক্রয় ঋণ : গৃহঋণ ও গাড়ি ক্রয় ঋণ বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে নতুন নীতিমালা করবে সরকার। তত দিন পর্যন্ত গৃহ ও গাড়ি কেনার ঋণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ক্যাডার-নন ক্যাডারের বৈষম্য কমানো হবে : ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য কমাতে ‘প্রশাসনিক সংস্কার ও বেতন-ভাতা সম্পর্কিত কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় অর্গানোগ্রাম পুনর্বিন্যাস ও যথাযথ নিয়োগবিধি প্রণয়নের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ছাড়া নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা নির্ধারণের বেলায় কোনো ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা দিলে ‘বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র সুপারিশ অনুযায়ী তার সমাধান করা হবে।

সাভার, রংপুর ও গাজীপুরে বাড়ি ভাড়া বাড়বে : বাড়ি ভাড়া ভাতা বিদ্যমান হারেই থাকছে। তবে চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী মেট্রোপলিটন বা পৌর এলাকার সঙ্গে একই ক্যাটাগরিতে রংপুর, সাভার ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন বা পৌর এলাকার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়ি ভাতা খাতে বাড়তি দরকার হবে চার হাজার ৯৪০ কোটি ১১ লাখ টাকা।

পেনশনের জন্য আলাদা দপ্তর হবে : সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের আওতায় কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের জন্য ট্রাস্ট ব্যাংকের আদলে ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ‘সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংক’ নামে একটি ব্যাংক স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া দেশে প্রায় পাঁচ লাখ ২০ হাজার পেনশনভোগীর জন্য অর্থ বিভাগের আওতায় একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান বা দপ্তর সৃষ্টি করা হবে।

গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য বাড়তি কিছু : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনসহ (বাপশক) অন্যান্য বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য তিন বছর মেয়াদে উচ্চতর বেতনে বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তিতে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের বিভিন্ন স্কেল নির্ধারিত আছে। সে অনুযায়ী নতুন স্কেলও তাঁরা পাবেন। তবে ব্যক্তিবিশেষ ও প্রতিষ্ঠানবিশেষের ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা গবেষকদের অবস্থান, খ্যাতি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারণ করা হবে। সেখানে কোনো আর্থিক উচ্চসীমা থাকবে না। তবে সুবিধা নির্ধারণের বিষয়ে কমিটি গঠন করা হবে। সন্তোষজনক কাজের ভিত্তিতে চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হবে। নতুন আবিষ্কার, উদ্ভাবন বা উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য গবেষণা কাজে নিয়োজিত গবেষকদের ন্যূনতম ছয় মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে।

এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে সপ্তম বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৯ সালের ১ জুলাই। সে অনুযায়ী এত দিন সরকারি চাকরিজীবীরা সর্বনিম্ন চার হাজার ১০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা মূল বেতন ধরে বেতন-ভাতা পেয়ে আসছিলেন। এর সঙ্গে ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে তাঁরা পাচ্ছিলেন মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা, যা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দিন থেকে বিলুপ্ত হবে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও বর্ধিত বেতন-ভাতা পেতে আরো দেড় থেকে দুই মাস লাগবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হয় যোগদানের তারিখকে ভিত্তি ধরে। এখন থেকে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হবে ১ জুলাই। যাঁরা এরই মধ্যে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন, তাঁদেরটা কর্তন করা হবে না।

- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2015/09/08/266093#sthash.ESVnxdVk.dpuf

Bookmark and Share

Comments are closed.